বিশ্বের অনেক দেশে এখনো লকডাউন চলছে। আর এই লকডাউনের কারণে অর্থনৈতিক পরিস্থিতি দিন দিন খারাপ হয়ে যাচ্ছে। এদিকে, অনেক প্রতিষ্ঠানের কর্মীরা বাসায় থেকে কাজ করছে। আর অনেক প্রতিষ্ঠান রয়েছে যারা তাদের কর্মীদের বেতনের কিছু টাকা কেটে নিয়ে বাসায় থাকার কথা বলেছে। তবে সব থেকে বিপজ্জনক হচ্ছে অনেক প্রতিষ্ঠানের কর্মীকে বাদ দেওয়া হচ্ছে। তবে এই করোনা পরিস্থিতে অনেক প্রতিষ্ঠানের (সিইও) বা মালিক সহানুভূতি দেখিয়েছেন। প্রতিষ্ঠানের এই সকল (সিইও) বা মালিকরা তাদের কর্মীদের চাকরি বাঁচানোর জন্য নিজেরা বেতন নিচ্ছে না। এমনকি তারা তাদের কর্মীদের একটাও বেতনের টাকা কেটে রাখেনি।

আরো পড়ুন

Error: No articles to display


চলুন সেসব প্রতিষ্ঠানের মালিকদের দেখে আসি।

তারা কীভাবে এমন সংকটময় পরিস্থিতি সামলাচ্ছেন, তা-ই একনজরে দেখে নেওয়া যাক-

রাজীব বাজাজ



বাজাজ অটোর সিইও রাজীব বাজাজ জানান, লকডাউন উঠে গেলে তিনি এবং অন্য উচ্চপদস্থরা কোনো বেতন নেবেন না। পাশাপাশি এ গভীর সংকটময় পরিস্থিতিতে সমাজের এবং দেশের পাশে দাঁড়াতে অন্য কর্মীদেরও বেতন কমানোর আহ্বান জানান। তিনি বলেন, \’অন্যদের বেতন কমানোর আগে নিজের পুরো বেতন কাটতে চাই।\’

ভবিশ আগারওয়াল



ক্যাব সার্ভিস ওলা ক্যাবসের সিইও এবং সহ-প্রতিষ্ঠাতা ভবিশ আগারওয়াল। তিনি আগেই ঘোষণা করেছেন যে, চলতি বছরে তিনি কোনো বেতন নেবেন না। তার বেতন চলে যাবে ওলার \’ড্রাইভ দ্য ড্রাইভার ফান্ডে\’। দিন-রাত পরিশ্রম করে মানুষকে সেবা দিতে ওলার যেসব ড্রাইভার কাজ করেন, তাদের আর্থিক সংকট মেটানোই এ প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য।

উদয় কোটাক



কোটাক মাহিন্দ্রা ব্যাংকের সিইও উদয় কোটাক প্রতি মাসে মাত্র ১ টাকা করে বেতন নেবেন। চলতি মাসে বিবৃতিতে জানান, কর্মীদের যাতে অসুবিধা না হয়। তারা যাতে ছাঁটাইয়ের সম্মুখীন না হয়। তা নিশ্চিত করতে তিনি ১ টাকা নেবেন। বাকি টাকা চলে যাবে সংস্থার ফান্ডে। ব্যক্তিগতভাবেও তিনি প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে ২৫ কোটি টাকা অনুদান দিয়েছেন।

বিজয় শেখর শর্মা



করোনাভাইরাস আসার পর থেকেই কর্মীদের সুরক্ষায় সতর্কতা দেখিয়েছেন মোবাইল পেমেন্ট অ্যাপস পেটিএমের প্রতিষ্ঠাতা বিজয় শেখর শর্মা। তিনি নিজের কর্মীদের কথা চিন্তা করে এক পয়সাও বেতন নেবেন না বলে ঠিক করেছেন। তিনি ঘোষণা করেন, পরবর্তী ২ মাসের জন্য কোনো বেতন নেবেন না। বেতনের পুরোটাই চলে যাবে কর্মীদের কাছে, যারা আক্রান্ত বা লকডাউনে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।

রিতেশ আগারওয়াল



ওয়ো\’র প্রতিষ্ঠাতা এবং সিইও রিতেশ আগরওয়াল বিবৃতিতে জানান, চলতি অর্থবছরে এক টাকাও বেতন নেবেন না। ২০২০ সালের এপ্রিল থেকে শুরু করে পরের বছর ২০২১ সালের এপ্রিল পর্যন্ত তার বেতন \’শূন্য\’ টাকা। তার আরও কিছু কর্মকর্তাও বেতন না নেওয়ার সদিচ্ছা প্রকাশ করেছেন। তাদের কেউ ২ মাস, কেউ ৬ মাসের বেতন নেবেন না।

দীপ কালরা



মেক মাই ট্রিপের প্রতিষ্ঠাতা এবং সিইও দীপ কালরা এক পয়সাও বেতন নেবেন না বলে জানিয়েছেন। তিনি ঘোষণা করেন, কেন্দ্রীয় সরকারের ত্রাণ তহবিলে জমা দেওয়া হবে তার বেতন। পাশাপাশি তিনি নিশ্চিত করেন, কোনো কর্মীও ছাঁটাই করা হবে না। এমনকি ইতোমধ্যে তার বিপন্ন কর্মীদের আর্থিকভাবে সাহায্যও করেছেন।



উল্লেখ্য,করোনা ভাইরাসের কারণে গোটা বিশ্বে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। আর এ কারণে অনেক দেশে কোটি কোটি মানুষ কর্মহীন হয়ে পড়েছে। তবে এই সিইও বা প্রতিষ্ঠানের মালিকরা এই দূর সময়ে তাদের প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের সাথে সহানুভূতির পরিচয় দিচ্ছেন। যা থকে অন্যরাও শিক্ষা নিতে পারে। তবে এই করোনা পরিস্থিতেতে প্রতিটা দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা দিন দিন খারাপের দিকে যাচ্ছে। আর এ কারণে প্রতিদিন অনেক প্রতিষ্ঠান তাদের কর্মীদের বেতন দেওয়া নিয়ে বড় রকমের দূর চিন্তায় রয়েছে। কিন্তু এই সময় সবাইকে সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিতে হবে মনে করেন অনেকে।

আরো পড়ুন

Error: No articles to display