চীনে প্রথম করোনা ভাইরাস দেখা দেওয়ার পর তা ওই দেশে ব্যাপক হারে ছড়ায়। দেশটির উহান শহরে প্রথম দিকে সংক্রমণ ও প্রাণ যাওয়ার সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ার সাথে সাথে ওই শহরটি লকডাউন করা হয়। এই লকডাউন করার কারণে উহান শহরে সকল কোম্পানি বন্ধ করা হয়। তবে বর্তমানে চীনের উহান শহরে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ ও প্রাণ যাওয়ার সংখ্যা একেবারে শূন্যের কোঠায় নেমে এসেছে। একই সাথে চীনের উহান শহরে লকডাউন শিথিল করা হয়েছে। তবে এখনো ওই শহরে সব কোম্পানি খোলা হয়নি। এদিকে, চীনের উহানে অনেক বিদেশি কোম্পানি রয়েছে। আর এই সকল বিদেশি কোম্পানিগুলো করোনা ভাইরাসের কারণে অনেক সমস্যার সম্মুখীন হয়।

আরো পড়ুন

Error: No articles to display


চীনে করোনাভাইরাসের কারণে স্থগিত হয়ে যাওয়া অনেক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এখনও উৎপাদন শুরু করেনি। লকডাউন উঠিয়ে নিলেও পণ্যের চাহিদা হ্রাস, আমদানি-রফতানি বাণিজ্যে ব্যাঘাতসহ নানা কারণে এখনও পুরোদমে উৎপাদনে যেতে পারছেনা দেশটি। ফলে সেখানে বেকারত্ব বেড়ে গেছে কয়েকগুণ।

জাপান, জার্মানি এবং যুক্তরাষ্ট্রের বেশ কিছু সংখ্যক বিনিয়োগকারীও চীনে তাদের কোম্পানির উৎপাদন শুরু করেনি। অনেকে বিদেশি কোম্পানি চীন থেকে তাদের কারখানা বাইরে নিয়ে যাওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে। এমন কোম্পানিগুলোর বিনিয়োগ টানতে জমি প্রস্তুতসহ নানা পদক্ষেপ নিচ্ছে ভারতসহ একাধিক দেশ। এ তালিকায় পিছিয়ে নেই বাংলাদেশও। এরইমধ্যে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলো পদক্ষেপ গ্রহণ করতে শুরু করেছে।

চীন থেকে বিনিয়োগ অন্যত্র সরিয়ে নিতে পারে- এমন কোম্পানির তালিকায় আছে জাপানিজ হোন্ডা মটর, টয়োটা মোটর, মিৎসুবিশি, হেভি ইন্ড্রাস্ট্রিজ, লওসন, নিট্টো ডেনকো ও রোম। তারা চীনে উৎপাদন বন্ধ করে দিয়ে দক্ষিণ এশিয়ার নতুন কোনও স্থানে বিনিয়োগ স্থানান্তরিত করতে আগ্রহী। জাপানিজ নিক্কেই-এর এক জরিপে এ তথ্য পাওয়া গেছে।
জরিপে ৮০টি কোম্পানিকে বিকল্প উৎপাদন পরিকল্পনার বিষয়ে প্রশ্ন করা হয়েছিল। এতে ১৭টি কোম্পানি চীন থেকে তাদের উৎপাদন কার্যক্রম অন্য দেশ ও অঞ্চলে সরিয়ে নিতে পারে বলে জানিয়েছে।

এছাড়া চীন-মার্কিন বাণিজ্যযুদ্ধের কারণে বেশ কিছু কোম্পানি তাদের বিনিয়োগ সরিয়ে নিতে তোড়জোড় শুরু করেছে। চলতি মাসের শুরুতে জাপান ব্যবসা স্থানান্তর করতে তাদের কোম্পানিগুলোর জন্য মোট ২.২ বিলিয়ন ডলার বরাদ্দ করেছে।

তবে বিনিয়োগ বিশেষজ্ঞদের মতে, অন্য দেশের তুলনায় চীনেই এখন পরিস্থিতি স্বাভাবিক। তাই ব্যাপক হারে কোম্পানিগুলোর বিনিয়োগ সরিয়ে নেওয়ার বিষয়টি নাও হতে পারে। তাছাড়া বিনিয়োগকারীদের হাতে ব্যবসা সরানোর প্রয়োজনীয় অর্থ নাও থাকতে পারে।

তবে চীন থেকে বিনিয়োগ সরাতে আগ্রহী দেশগুলোর পছন্দের জায়গার রয়েছে দক্ষিণ এশিয়া। এক্ষেত্রে চীনের বিকল্প বিনিয়োগ কেন্দ্র হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে উঠতে পারে একাধিক দেশ। মার্কিন সাময়িকী ফোর্বস জানিয়েছে, চীনের পার্শ্ববর্তী দেশ যেমন ভিয়েতনাম, থাইল্যান্ড, বাংলাদেশ, কম্বোডিয়া, ইন্দোনেশিয়া উপযুক্ত উৎপাদন কেন্দ্র হয়ে উঠতে পরিবহন অবকাঠামো ও বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে বড় মাপের বিনিয়োগ করছে।

মহামারী করোনাভাইরাসের কারণে চীন ছাড়তে ইচ্ছুক বিদেশি কোম্পানিগুলোর বিনিয়োগ নিজের দেশে টানার সুযোগ নিতে পারে বাংলাদেশও। বিনিয়োগ টানতে শিল্পগোষ্ঠী কিংবা সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সঙ্গে আলোচনায় নামতে পারেন কূটনীতিকরা। ’The Global Economic Recession due to Unprecedented Spread of Deadly Coronavirus and the Possible Economic Impact on Bangladesh’ নামের একটি প্রতিবেদন তৈরি করেছে বাণিজ্য ও অর্থ মন্ত্রণালয়। সেখানে এমন সম্ভাবনার কথা বলা হয়েছে।

এ বিষয়ে আরও আলোচনার জন্য তা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকেও এ বিষয়ে ব্যক্তিগত খাত, বিশেষত ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ড্রাস্ট্রিকে (এফবিসিসিআই) অবহিত করা হয়েছে, যাতে বাংলাদেশে বড় বিনিয়োগ আনার বিষয়ে পদক্ষেপ গ্রহণ করা যায়। সূত্র: বিজনেস মিরর

উল্লেখ্য, চীনের উহান শহরে প্রথম করোনা ভাইরাস দেখা দেয়। আর এ কারণে চীনের উহান শহরে প্রথম দিকেই লকডাউন করা হয়। আর এ জন্য চীনের উহানে বিদেশি কোম্পানিগুলো ব্যাপক সমস্যার মধ্যে পরে। তবে এই শহরে বর্তমানে লকডাউন শিথিল করা হলেও এখনো বিদেশি কোম্পানিগুলো উৎপাদন কাজ শুরু করতে পারেনি। তবে এই সকল বিদেশি কোম্পানিগুলো চাইছে তারা অন্য স্থানে গিয়ে তাদের কাজ আবার নতুন করে শুরু করবে। আর এই সকল বিদেশি কোম্পানিগুলো এশিয়ার অন্য দেশে যেতে আগ্রহি রয়েছে।

আরো পড়ুন

Error: No articles to display