করোনা ভাইরাসের কারণে বর্তমানর সারা বিশ্ব যখন কাপছে ঠিক সে সময় পঙ্গপাল মানুষের জন্য অনেক বড় মাথা বেথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই পঙ্গপাল ইতিমধ্যে বিশ্বের বেশ কয়েকটি দেশে হানা দিয়েছে। আর এরই মধ্যে হাজার হাজার হেক্টর জমির ফসল নষ্ট করেছে এই পঙ্গপাল। এদিকে, বাংলাদেশের প্রতিবেশী দেশগুলো ব্যাপকভাবে পঙ্গপাল হানা দিয়েছে। ভারত ও পাকিস্তানে এরই মধ্যে পঙ্গপাল হানা দিয়ে অনেক ফসল নষ্ট করেছে। আর এ কারণে এই পঙ্গপাল নিয়ে বাংলাদেশের মানুষেরাও অনেক চিন্তায় রয়েছে। তবে এবার এই পঙ্গপাল নিয়ে নতুন সংবাদ পাওয়া গেছে।

আরো পড়ুন

Error: No articles to display



প্রতিবেশী ভারত ও পাকিস্তান যখন পঙ্গপালের হানায় নাস্তানাবুদ তখন এ নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার অবকাশ রয়েছে বাংলাদেশেরও। তবে জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও) আশ্বস্ত করছে, এ নিয়ে আপাতত বাংলাদেশের চিন্তিত হওয়ার কারণ নেই। মৌসুমী বায়ু অনুকূলে থাকবে না, তাই এ বছর বাংলাদেশে পঙ্গপাল আসার সম্ভাবনা নাই।

বিশ্বজুড়ে পঙ্গপালের গতিবিধির ওপর নজর রাখছে এফএও। একইসঙ্গে দেশগুলোকে এ বিষয়ে সতর্কও করছে। সংস্থাটি গত ২৭ মে প্রকাশিত তাদের সর্বশেষ পর্যবেক্ষণে জানায়, রাজস্থানে থেকে পঙ্গপালের ঝাঁক মধ্যপ্রদেশ ও মহারাষ্ট্রে যেতে থাকবে। আরো কয়েকটি ঝাঁক রাজস্থানে ঢুকতে পারে জুলাই পর্যন্ত। এরা বাতাস অনুকূলে পেয়ে বিহার ও উড়িস্যাতেও পৌঁছে যেতে পারে। এরপর মৌসুমি বায়ূ দিক বদলাতে শুরু করলে এরাও রাজস্থানের দিকে ফিরে আসবে। ওই সময় তাদের প্রজণনের সময় হবে এবং চলাচল থেমে যাবে। ফলে দক্ষিণ ভারত, নেপাল ও বাংলাদেশের দিকে যাওয়ার সম্ভাবনা পঙ্গপালের খুব একটা নাই।

বাংলাদেশের কৃষি উন্নয়ন ও গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব শাইখ সিরাজ এক প্রতিবেদনে জানান, গত মাসের শুরুতে তিনি এফএও’র পঙ্গপাল পূর্বাভাস বিষয়ক সিনিয়র কর্মকর্তা কিথ ক্রেসম্যানের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। বাংলাদেশে পঙ্গপাল আসার সম্ভাবনা কতটুকু এ বিষয়ে ওই কর্মকর্তা বলেন, ’কয়েকটি কারণেই বাংলাদেশে পঙ্গপাল হানা দেয়ার সম্ভাবনা নাই। প্রথমত, বাংলাদেশ থেকে অনেক দূরে আছে পঙ্গপাল। দ্বিতীয়ত, তারা বাতাসের বিপরীতে উড়তে পারে না। তৃতীয়ত, বাংলাদেশ অনেক আর্দ্র ও সবুজ, মরু পঙ্গপালের বসবাসের জন্য এ আবহাওয়া অনুকূলে নয়।’

উদ্ভিদ বিজ্ঞানীরা বলেছেন, পঙ্গপাল শুষ্ক আবহাওয়া পছন্দ করে। এদেশের আবহাওয়া আর্দ্র ও শুষ্ক। তাই এ দেশে পঙ্গপালের আক্রমণের সম্ভাবনা কম। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরেরে এক কর্মকর্তা বলেন, বিগত ৪৯ বছরে দেশে পঙ্গপালের কোন আক্রমণ হয়নি। কৃষি মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে আমাদের সতর্ক এবং প্রস্তুত থাকতে বলা হয়েছে। তবে এ বছর তেমন ঝুঁকি নাই, আগামী বছরের জন্য আমাদের সতর্ক হতে হবে। সূত্র:কালের কন্ঠ


জানা গেছে এই পঙ্গপালের একটি ঝাঁকে প্রায় কয়েকশ কিলোমিটার পর্যন্ত হতে পারে। এছাড়া একটি পঙ্গপাল দিনে প্রায় (২ গ্রাম) ফসল শেষ করতে পারে। আর একটি পঙ্গপালের ওজন প্রায় ২ গ্রাম। আর এ কারণে এই পঙ্গপাল দিন দিন অনেক ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে। আর এই কয়েকশ কিলোমিটার প্রর্যন্ত হওয়া পঙ্গপাল একদিনে প্রায় ৩২ হাজারের অধিক মানুষের এক বছরের খাবার শেষ করতে পারে। তবে এই পঙ্গপাল শেষ করার জন্য মানুষ অনেক চেষ্টা করছে তবে এরপরও পঙ্গপালের বংশ বিস্তার বেড়েই চলেছে।

আরো পড়ুন

Error: No articles to display