করোনা ভাইরাস দেশে দেশে দেখা দেওয়ার পর থেকে অনেক দেশ করোনা শনাক্তের কিট উৎপাদন করতে শরু করে। এদিকে, দেশে প্রথম করোনা ভাইরাস দেখা দেওয়ার পর থেকে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র এই ভাইরাস শনাক্তের কিট উৎপাদণের সিদ্ধান্ত নেয়। আর সে অনুযায়ী গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র করোনা শনাক্তের কিট উৎপাদন করতে সক্ষম হয়। তবে তারা এই করোনা শনাক্তের কিট উৎপাদন করতে সক্ষম হলেও এই কিট এখনো তারা দেশে আনুষ্ঠিকতার সাথে ব্যবহার করার অনুমতি পাননি। এছাড়া তাদের এই কিট নিয়ে অনেক নানা কথা বলছেন। অনেকে তাদের উৎপাদিত কিট নিয়ে কথায় জড়াচ্ছেন।

আরো পড়ুন

Error: No articles to display



করোনা শনাক্তকরনের কিট ডা: বিজন কুমার শীল উদ্ভাবন করেছেন, আর নাম কামাচ্ছেন ডা: জাফরুল্লাহ চৌধূরী - এধরনের একটি মন্তব্য করেছেন কবি নির্মলেন্দু গুণ। তার এই মন্তব্য অনেককে আ’ঘাত করেছে, আমাকেও।

প্রথমত: জাফরুল্লাহ চৌধুরী কখনো কিটটি উদ্ভাবনের কৃতিত্ব দাবী করেননি, তিনি বরাবর ডা: বিজন কুমার শীলের নেতৃত্বে পাচজনের একটি দল এটি করেছে বলেছেন। ডা: বিজন একজন অতুলনীয় মেধার উদ্ভাবক। কিন্তু তারপরও করোনার কিট আবিস্কার নিয়ে তার কথা আমরা যতোবার শুনেছি, তা আগে কখনো ততোটা হয়নি।তাহলে তার কৃতিত্ব ডা: জাফরুল্লাহ চৌধূরী নিলেন কোথায়? কেন তাহলে এ অভিযোগ?

দ্বিতীয়ত: নির্মলেন্দু গুণ এ উদ্ভাবনের জন্য ডা: বিজনের নাম নিলেও বাকী চারজনের নাম নেননি। বাকী চারজন হচ্ছেন ড. ফিরোজ আহমেদ, ড. নিহাদ আদনান, ড. মোহাম্মদ রাশেদ জমিরউদ্দিন এবং ড. আহসানুল হক।তিনি এ চারজনের নাম নেয়া তো দুরের কথা কিটটি যে একটি দল উদ্ভাবন করেছে সেটিও বলেননি। ডা: বিজনের কৃতিত্ব নিয়ে উনার এতো আগ্রহ থাকলে, অন্যদের কৃতিত্বের বেলায় সেটা থাকলোনা কেন? নাকি উনার আসল উদ্দেশ্য ছিল শুধু ডা: জাফরুল্লাহকে হেয় করা?
এবার আসি জাফরুল্লাহ চৌধুরীর কৃতিত্বের কথায়। তাকে মানুষ এতো প্রশংসা করছে কারণ কিটটি উদ্ভাবনের পৃষ্ঠপোষক ও উদ্যেক্তা তিনি, গনস্বাস্থ্যের প্রধানও তিনি। এ কিট সরকারের কাছে অনুমোদন করার জন্য যে অবিচল সংগ্রাম তাও হচ্ছে তার নেতৃত্বে।
জাফরুল্লাহ চৌধুরীর নাম তাহলে হবে না কেন? সবচেয়ে বড় কথা হচ্ছে নামটা তো উনি মিথ্যে বলে বা জোর করে নিচ্ছেন না। এটা হচ্ছে স্বত:ষ্ফূর্তভাবে। এর জন্য তিনি অভিযুক্ত হবেন কেন. অভিযোগই বা উঠবে কেন?

কবি গুণের কাছে প্রশ্ন: ব্র্যাকের কোন কাজটা স্যার আবেদ নিজ হাতে করতেন? কিন্তু আমরা কি ব্র্যাকের সব কৃতিত্ব মূলত জনাব আবেদকে দিতাম না? এরকম আরো বহু উদাহরণ আছে, উদাহরণ আছে বাংলাদেশের সরকারী অঙ্গনেও। কোন কিছু তার চোখে পড়লো না এতোবছরে, হৃদয় ভেঙ্গে গেল শুধু ডা: জাফরুল্লাহর প্রশংসায়?

নির্মলেন্দু গুণ বড় কবি। কিন্তু এধরনের অমূলক অভিযোগ করে তিনি ছোট মনের পরিচয় দিয়েছেন। তিনি আওয়ামী লীগের কবি বলে এখন নিজেকে পরিচয় দেন। আওয়ামী লীগের কোন নেতাও ডা: জাফরুল্লাহ চৌধুরী সম্বন্ধে এমন অভিযোগ করেননি।
তার এমন আচরন তাই শুধু দু:খজনক না, বিস্ময়করও।

উল্লেখ্য, গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র করোনা ভাইরাস শনাক্তের কিট উৎপাদন করারা পর থেকে ডা: জাফরুল্লাহ বেশিভাগ সময় গণমাধ্যমের সাথে কথা বলেছেন। এছাড়া তিনি প্রায় সময় তাদের উৎপাদিক কিট সম্পর্কে গণমাধ্যমের সামনে নানা রকম কথা বলেছেন। একই সাথে তিনি করোনার কিট অনুমোদনের জন্য অনেক স্থানে গিয়েছেন। তবে এ নিয়ে তাকে অনেক সময় কথা শুনতে হয়েছে। আর এবার তাকে নিয়ে কথা বলায় ড. আসিফ নজরুল এই কথা গুলো বলেছেন।

আরো পড়ুন

Error: No articles to display