চীনে প্রথম করোনা ভাইরাস দেখা দেওয়ার পর তা দ্রুত অন্যান্য দেশে ছড়াতে থাকে। তবে চীনের পর এই করোনা ভাইরাস ইউরোপের দেশ ইতালিতে ব্যাপক ভাবে ছড়ায়। এই দেশটিতে করোনা ভাইরাসে সংক্রমণের সাথে সাথে প্রাণ যাওয়ার সংখ্যাও অনেক বাড়তে থাকে। এরপর ইউরোপের বেশ কিছু দেশে এই করোনা ভাইরাস ছড়াতে থাকে। তবে প্রথম থেকে এই করোনা ভাইরাসকে অনেক দেশ মূল্যায়ন করেনি এমন অভিযোগও ওঠে। যার কারণে এই করোনা ভাইরাস ব্যাপকভাবে ছড়িয়েছে অনেকে মনে করেন। তবে অনেক চিকিৎসক বিজ্ঞানী মনে করেন এই করোনা ভাইরাসের রূপ কয়েক বার বদলিয়েছে। আর এ কারণে করোনা ভাইরাসে প্রাণ যাওয়ার সংখ্যাও বেড়েছে। এদিকে বাংলাদেশেও প্রায় সময় এই করোনা ভাইরাস সম্পর্কে অনেকে কথা বলে থাকে। আর এবার করোনা ভাইরাস ও অন্যান্য নানা বিষয়ে কথা বলেছেন চিকিৎসক ও কবি ফারহানা নীলা। তিনি দেশের বিভিন্ন তথ্য তুলে ধরেছেন।

আরো পড়ুন

Error: No articles to display



সমীর সাহা এবং তাঁর দল জিনোম সিকোয়েন্সিং কাজে সফল হয়েছেন। তার কন্যা সেঁজুতি সাহা এবং তিনি এটা নিশ্চিত করেছেন। ব্যক্তিগত উদ্যোগে জিনোম তথ্য উদঘাটন এটাই প্রথম। তাঁদের ল্যাবে তাঁরা একটি ভাইরাসের জিনোম সিকোয়েন্সিং করেছেন।

করোনা ভাইরাসের গতিপ্রকৃতি জানার জন্য এটা করা হয়। উৎপত্তি থেকে কতবার তার চরিত্রগত পরিবর্তন হয়েছে? কতটা শক্তিশালী রোগ তৈরির ক্ষেত্রে? অথবা দুর্বল হলো কিনা বাংলাদেশে? চিকিৎসা এবং ভ্যাকসিন আবিষ্কার করার জন্যও এটা জরুরি।

এই অনুজীব বিজ্ঞানী করোনা ভাইরাসের জীবন বৃত্তান্ত এবং গতিপথে বিভিন্ন পরিবর্তন জানার জন্য এই কাজ করেছেন। শুরুতে যে ভাইরাস ছিল, সে কতবার তার গঠন এবং চরিত্র বদলেছে সেটাও জানা যাবে। চরিত্র বদলে কোনো কোনো ভাইরাস শক্তিশালী হয়, আবার কোনো কোনো ভাইরাস রোগ তৈরিতে দুর্বল হয়ে যায়। যেমন নাকি ঘুর্ণিঝড় সৃষ্টির পর থেকে হুট করে দুর্বল হতে থাকে।

খুব সহজভাবে যদি বলি... ভাইরাস মাসে অন্ততপক্ষে দুইবার পরিবর্তিত হয়। সেটা ভাল বা মন্দ নয়। প্রকৃতিতে টিকে থাকবার জন্য এই বিবর্তন। আরো অন্যান্য জায়গায় জিনোম সিকোয়েন্সিং এর কাজ চলছে। বিএসএমএমইউ, আইইডিসিআর এই সিকোয়েন্স করার কাজ করছে।

চ্যালেঞ্জ হলো... স্যাম্পল কালেকশন এবং প্রসেসিং। দক্ষ জনবল এবং সময়মত নমুনা না এলে জটিলতা বাড়বে।সেক্ষেত্রে সমন্বয় জরুরি।

ইউকে, সুইডেন, তাইওয়ান... এসব জায়গার ভাইরাসের সাথে বাংলাদেশের ভাইরাসের মিল পাওয়া গেছে।

শারীরিক দূরত্ব মানার বিষয়টি মানুষ মানছে না। বাড়িতে এসে নমুনা সংগ্রহ না করলে টেস্ট করতে গিয়েও সংক্রমণের ঝুঁকিতে পড়বে মানুষ। লাইন ধরে দাঁড়িয়ে মানুষ। শারিরীক দূরত্ব বজায় থাকছে না।

বাড়িতে বাড়িতে স্যাম্পল কালেকশন বন্ধ হয়ে গেছে। বয়স্কদের জন্য এটা খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। সংক্রমণের আশংকা বেড়ে গেছে। যদিও বাড়ি বাড়ি গিয়ে এটা করা দূরহ কাজ।তবে এতদিন কিন্তু চলছিল এটি।

শিথিল লক ডাউন। মানুষ লক ডাউন মানছে না। নিজস্ব দায়িত্ব বুঝছে না। নড়াইল এবং টোলারবাগকে করোনা মুক্ত ঘোষণা করা হয়েছে।

দোকানে ভীড়। ঈদের কেনাকাটাও করছে।গায়ে গা লাগিয়ে মার্কেটে মানুষ। শারিরীক দূরত্ব বজায় থাকছে না।

দিন আনে দিন খায় মানুষ ক্ষুধার কাছে পরাজিত হয়ে গিয়েছে। মেসে থাকে,একটা টয়লেট ব্যবহার করে... মানতে পারছে না শারীরিক দূরত্ব। মানুষ ঘরে অস্থির হয়ে যাচ্ছে। তারা জীবনের কাছে জীবিকার জন্য আত্মঘাতী হয়ে উঠছে। সংক্রমণ বেড়েই চলেছে। মৃত্যু বেড়েই চলেছে।

লক ডাউন শিথিল করাতে মানুষ ভুলে গেছে এখনো লক ডাউন বাদ হয়নি। প্রয়োজন নির্বাচন করতেও মানুষ অবিবেচক হচ্ছে। ঈদের কাপড় কিনে কোথায় বেড়াতে যাবে মানুষ এই করোনাকালে? আর যেখানে ও্যঁৎ পেতে আছে মৃ’’ত্যু, সেখানে এইসব তো বাতুলতা! অথচ মানুষ সচেতন নয়। তারা কেমন জানি নিরুৎসাহিত হয়ে উঠছে?

হাসপাতালে হাসপাতালে ঘুরছেন রোগী। পথিমধ্যে মারা যাচ্ছেন, লিফটে মারা যাচ্ছেন। যারা মানছেন লক ডাউন তাঁদেরকে সাধুবাদ। যারা গুরুত্ব বুঝতে না পেরে অমান্য করছেন, তাঁদের কাছে সনির্বন্ধ অনুরোধ। আপনার সুস্থতা আপনার হাতে। আপনার সুস্থতা আপনার নিজস্ব বুঝে।

প্রয়োজনে আবার কঠিন লক ডাউন হতে পারে। যদি আক্রান্ত বেড়ে যায়, তবে কঠোর হতেই হবে।একাত্তর টিভির বরাত দিয়ে জানলাম।

কনটাক্ট ট্রেসিং করতে হবে।কার কার সংস্পর্শে এসেছেন তাদেরকে খুঁজে বের করে টেস্ট করা হবে ডিজিটাল টেকনোলজির মাধ্যমে... মোবাইলের একটি এ্যাপ ডাউনলোড করতে হবে। সবসময়ই ব্যবহার করবে। সেন্ট্রাল ডাটাবেজে চলে আসবে।পজিটিভ রোগী গত চৌদ্দ দিন বা সাতদিন আগে কার কার সাথে মিশেছেন, কতক্ষণ থেকেছেন... সবকিছুই জানা যাবে।

আক্রান্ত ব্যক্তি দুই মিটারের মধ্যে থাকলে একটি এলার্ট টোন বাজবে।তখন মানুষ জানতে পারবে আশেপাশে করোনা রোগী আছেন। লোকেশন ট্র্যাকিংয়ের জন্য ইন্টারনেট সবসময় অন করে রাখতে হবে। প্রাইভেসির বিষয়টি মাথায় রেখে নাম থাকবে না, শুধু ফোন নম্বর থাকবে। কোনো ব্যক্তি কোনো পরিচয় বের করতে পারবে না। সিংগাপুর, সাউথ কোরিয়া এটা ব্যবহার করছে।

নিজেদের নিরাপদে রাখার জন্য এই এ্যাপটা ব্যবহার করার জন্য সচেতনতা বাড়াতে হবে। আশা করা যায় আগামী সপ্তাহে এটা শুরু হবে। যারা ইতিমধ্যে সুস্থ হয়েছেন, তারা অভিজ্ঞতা থেকে অনেক পরামর্শ দিয়েছেন। কিন্তু প্রশ্ন থেকে যায়? কতজন এটা ব্যবহার করবেন বা গুরুত্ব বুঝবেন? আমাদের দেশে আক্রান্ত রোগী হাসপাতাল থেকে পালিয়ে যায়। ইতিহাস গোপন করে। স্যোসাল স্টিগমা তৈরি হয়ে গেলে সেখান থেকে বের হওয়া খুব কঠিন।

সবার স্মার্ট ফোন নেই।সেক্ষেত্রে এই সার্ভিস অন্যভাবে ব্যবহার করতে হবে।তাদেরকে এর আওতায় আনার কাজ চলছে।মোবাইল নেটওয়ার্ক টাওয়ারের মাধ্যমে এটা কাজ করবে।

চট্টগ্রাম নগর পুলিশ স্টে হোম,স্টে সেফ এ্যাপ শুরু করেছেন। হোম কোয়ারেন্টিনে আক্রান্ত রোগী থাকছে কিনা জানা যাবে। বিশ মিটারের বাইরে গেলে একটা সাউন্ড হবে এবং কন্ট্রোল প্যানেল জেনে যাবে। স্মার্ট ফোনে এটা ইনস্টল করা যায়। কবে থেকে শুরু কোয়ারেন্টিন, কবে শেষ হবে... এই বিষয়ে একটি ম্যাসেজ যাবে। সবমসময় ইন্টারনেট কানেকশন এইক্ষেত্রে প্রয়োজন।

যত প্রযুক্তিগত উৎকর্ষতাই আসুক না কেন, ব্যক্তি সচেতনতা না এলে কোনো লাভ নেই। মানুষকে মানুষের বোধগম্য ভাষায় বোঝাতে হবে। মানুষকে উদ্বুদ্ধ করতে হবে তাদের মত করে। সবকিছুই আইন, নিয়ম, বাধ্যবাধকতা দিয়ে হয় না।

ঠিক তেমনভাবেই শাসনও করতে হবে সময়মত। চড়েবড়ে বেড়াবার পর খোঁয়াড়ে ঢুকিয়ে রাখলেও লাভ নেই। ততদিনে আক্রান্ত হয়ে যাবে আরো আরো মানুষ।

মানুষ আসলেই আজব চিড়িয়া! প্রায় দুই মাস ঘরবন্দী থেকে এটা আবারও বুঝলাম। এরচেয়ে সাফারি পার্কের ভেতরে মানুষকে রাখলেও বোধ করি কিছু ফায়দা পাওয়া যেতো! অন্যান্য পশুরা মানুষকে ঘুরেফিরে দেখতে আসতো। সময়মত খাবার পৌঁছে যেতো। মানুষের এত বদ্ধ লাগতো না। আর বিরসও হতো না জীবন!

পুনশ্চঃ একটা প্রশ্ন মাথায় ঘুরপাক খায়.... ভয় না পাওয়াটা কি একটা রোগ? অথবা ভয় পাওয়াটা কি খুবই লজ্জার বা গর্হিত কোনো কাজ? লেখক: চিকিৎসক ও কবি।


তিনি আরও বলেন যতই প্রযুক্তিগত উৎকর্ষতাই আসুক না কেন দেশের মানুষ সচেতন না হলে কোনো কিছুতেই সফল হওয়া যাবে না। মানুষকে এই বিষয়ে আরও বুঝাতে হবে। দেশের মানুষকে বুঝাতে হবে তাদের বোধগম্য দিয়ে। একই সাথে মানুষকে উদ্বুদ্ধ করতে হবে তাদের মত করে। তারা যেমন তাদেরকে তেমন ভাবে বুঝাতে হবে। তিনি আরও বলেন সব কিছু আসলে আইন দিয়ে বা বাধ্যবাধকতা দিয়ে হয় না। আর ঠিক মানুষদেরকে শাসন করতে হবে সময় মত। সারা জায়গায় ঘুরে বেড়ানোর পর বাড়িতে আটকে রাখলে কোনো লাভ নেই। আর এদিকে ততো দিনে সংক্রমণ আরও বেড়ে যাবে। তিনি আরো বলেন মানুষ আসলে একটি আজব চিড়িয়া। আমি গত দুই মাস বাড়িতে থেকে তা বুঝলাম বলেন তিনি। এর চেয়ে মানুষকে সাফারি পার্কে রাখলে কিছুটা ফায়দা পাওয়া যেতো। তাহলে মানুষকে সঠিক সময়ে খাবার দিয়ে আসতো। এছাড়া মানুষের এত বদ্ধ লাগত না। আর জীবনও বিরসও হতো না বলেন তিনি।

আরো পড়ুন

Error: No articles to display