দেশে ইতিমধ্যে বেশ কয়েকজন সরকারি উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা করোনা ভাইরাসে সংক্রমিত হয়েছে। আর এই সকল সরকারি কর্মকর্তারা করোনা ভাইরাসে সংক্রমিত হওয়ার পর থেকে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী চলছেন। এদিকে, গত কয়েকদিন আগে বাংলাদেশের ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক (উপসচিব) মনজুর মোহাম্মদ শাহরিয়ার করোনা ভাইরাসে সংক্রমিত হন। এরপর তিনি দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসাধীন ছিলেন। এমনকি তার অনেক শারীরিক সমস্যা দেখা দেয়। এই সরকারি কর্মকর্তার শরীরে গত ১৩ মে করোনা ভাইরাস ধরা পড়ে।

আরো পড়ুন

Error: No articles to display



তারপর শরীরের ওপর দিয়ে রীতিমতো ঝড় গেছে শাহরিয়ারের। ফু’সফুসে সংক্রমণ ধরা পড়েছে। ব্যাক পেইন তীব্র হয়েছে। স্কয়ার হাসপাতাল, সম্মিলিত সামরিক হাসপাতাল (সিএমএইচ), ল্যাবএইড, আনোয়ার খান মর্ডান হাসপাতাল ঘুরে এবং সবশেষ বাংলাদেশ স্পেশালাইজড হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়ে ২৭ দিন করোনার বিরুদ্ধে যুদ্ধ শেষে সুস্থ হয়ে বাসায় ফিরেছেন প্রশাসন ক্যাডারের ২২তম ব্যাচের এই কর্মকর্তা। শারীরিক অবস্থার বেশ উন্নতি হওয়ায় তাকে বাসায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, ফু’সফুসের সংক্রমণ এবং ব্যাক পেইনের জন্য চিকিৎসক দুই সপ্তাহের বিশ্রামে থাকতে বলেছেন। খুশির খবর জানিয়েছেন স্ত্রী এক ছেলে ও এক মেয়ের যে করোনা পজেটিভ ধরা পড়েছিল, আজ মঙ্গলবার জানানো হয়েছে, সবার করোনা নেগেটিভ এসেছে। স্ত্রী তানজিনা সুলতানা, মেয়ে তাইফা নূহা আশী (১২) ও ছেলে তানজিন শাহরিয়ার আরিফের (১০) শরীরে করোনা নেই। সূত্র:কালের কন্ঠ

মনজুর মোহাম্মদ শাহরিয়ার দেশবাসীর কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, সবার দোয়ায় আমি সুস্থ হয়েছি। বণিজ্যমন্ত্রী ও বাণিজ্য সচিব সার্বক্ষণিক খবর নিয়েছেন। তাদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন। গত ১৩ মে প্রথম করোনা পজেটিভ ধরা পড়ার পর তিন দফায় পরীক্ষা করে প্রতিবারই করোনা পজেটিভ ধরা পড়ে মনজুর শাহরিয়ারের। ২৬ মে দ্বিতীয় দফা রাজধানীর সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) কোভিড-১৯ পরীক্ষা করানো হলে সেখানেও পজিটিভ আসে।

গত ২৮ মে অবস্থার অবনতি হলে প্রথম নেওয়া হয় ল্যাবএইড হাসপাতালে। কিন্তু সেখানে ভর্তি করানো হয়নি। পরে নেওয়া হয় আনোয়ার খান মর্ডান হাসপাতালে। কিন্তু সেখানেও ভর্তি করতে অপারগতা প্রকাশ করা হয়। সবশেষ বাংলাদেশ স্পেশালাইজড হাসপাতালে ভর্তি করা হয় একই দিন ২৮ মে। ৩ জুন করোনা নেগেটিভ আসে তাঁর। অবশেষে হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়ে গতকাল বাসায় ফিরেন তিনি।

এদিকে, দেশে দিন দিন অনেক মানুষ করোনা ভাইরাসের সংক্রমিত হচ্ছে ও প্রাণ হারাচ্ছে। তবে যে সকল ব্যক্তিদের করোনা ভাইরাসের উপসর্গ দেখা দিচ্ছে তারা যেন খুব দ্রুত করোনা ভাইরাসের নমুনা পরীক্ষা করেন। কারণে করোনা ভাইরাসে সংক্রমিত হওয়ার পর দ্রুত চিকিৎসা সেবা নিলে করোনা থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভাব বলছে চিকিৎসকরা। আর করোনা ভাইরাসের নমুনা পরীক্ষা করতে দেরি হলে অনেক বড় সমস্যা দেখা দিতে পারে। এছাড়া তার মাধ্যমে অন্যদের ছড়াতে পারে।

আরো পড়ুন

Error: No articles to display