হঠাৎ আলোচিত চরিত্র হয়ে উঠেছেন সুনামগঞ্জের তারামিয়া, যিনি কি না হাত পেতে সংসার চালান। তার ভিক্ষা করার কারণ আর কিছুই নয়, তার শারীরিক অক্ষমতা। এক হাতে শক্তি নেই, তাই চেয়েচিন্তে চলেন। অথচ এই তারা মিয়াই নাকি পুলিশের ওপর অস্ত্র হাতে ঝাঁপিয়ে পড়েন। অন্তত পুলিশের মামলায় তাই বলা হয়েছে।

আরো পড়ুন

Error: No articles to display

পুলিশের নাশকতার মামলায় ঢাকায় জামিন চাইতে আসা তারা মিয়ার বিরাট ছবি এসেছে গণমাধ্যমে। এরপর শুরু হয় সমালোচনা ঝড়।
তবে তারার বিরুদ্ধে মামলা করা সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জ থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বলছেন উল্টো কথা। তার দাবি, এই ব্যক্তির হাতে সমস্যা থাকলেও তিনি সবই করতে পারেন।
গণমাধ্যমে আসা প্রতিবেদন অনুযায়ী তারা মিয়ার ডান হাতটি অস্বাভাবিক চিকন, নাড়াতেই কষ্ট হয়। কিছু ধরতে বা কাজ করতে পারেন না ডান হাত দিয়ে। এমনকি ডান হাতে খেতেও পারেন না। এটি তার জন্মগত সমস্যা। বাম হাত তুলনামূলকভাবে লম্বা এবং বাঁকানো।
তবে গত ২৮ ডিসেম্বর জামালগঞ্জ পুলিশের পক্ষ থেকে করা মামলায় বলা হয় , বিকাল চারটার পর মল্লিকপুর বাজারে পুলিশের ওপর চাপাতি, হকিস্টিক ও লোহার রড় দিয়ে আক্রমণের ঘটনা ঘটে। এতে ৫২ জনকে আসামি করা হয়, যাদের একজন তারা মিয়া।
এই ঘটনার সংবাদ প্রকাশের পর তোলপার হচ্ছে গোটা সুনামগঞ্জ জেলা জুড়ে। সামাজিক মাধ্যমে সমালোচনা দেশের সীমাও পারিয়েছে।
তারার বাড়ি সুনামগঞ্জ জেলার জামালগঞ্জ উপজেলার ভিমখালী ইউনিয়নের ভান্ডা গ্রামে। কীভাবে নাশকতার মামলার আসামি হলেন তিনি?- জানতে চাইলে জামালগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবুল হাসেম বলেন, ’২৮ (ডিসেম্বর) পুলিশের সঙ্গে সংর্ঘষের সময় স্পটে সে ছিল, অন দ্য স্পট।’
’আসামি একশ লোক। সবার হাতে অস্ত্র ছিল আমরা তা এজহারে বলি নাই। ও জন্ম থেকে হাতে সমস্যা হলেও সংঘর্ষের সময় স্পটে ছিল। সে সুস্থ। ঘটনাস্থলে সবার সাথে সে ছিল। তাই তাকে আসামী করা হয়েছে।    
-কিন্তু এই ধরনের একজন মানুষের পক্ষে কি পুলিশকে আক্রমণ করা সম্ভব?
- ’তার (তারা মিয়া) জন্ম থেকে তার হাতে সমস্যা আছে। সে হাঁটাচলা, ব্যবসা সব কিছুই করতে পারে, সবাইকে গালাগালি করতে পারে।’
-তার মতো মানুষের পক্ষে কি অস্ত্র তোলা সম্ভব?
-সংঘর্ষের সময় হাতে অস্ত্র ছিল কি না তা তদন্তে জানা যাবে। ওর হাতে দা ছিল না লাঠি ছিল তা বলা যাবে না। কারণ কার হাতে কী ছিল এবং তার (তারা) হাতে কী ছিল এখনো চিহ্নিত করা যায়নি।’ সূত্র : ঢাকাটাইমস

আরো পড়ুন

Error: No articles to display