ডিম্পলকে ডিপ্রেশনে ফেলে দেয় রাজেশ-টিনার উদ্দাম প্রেমের সম্পর্ক : মিলি

তারকাদের জীবন সম্পর্কে অনেকের ভিন্ন ধারনা থাকলেও বাস্তবতাটা কঠিন। তাদের জীবন সম্পর্কে জানলে অনেকেই অবাক হয়ে যাবেন। কারণ তাদের ব্যক্তিগত জীবনের ঘটনা অনেক ক্ষেত্রে সিনেমাকেও হার মানায়। তেমন ঘটনায় ঘটেছিল অভিনেতা রাজেশ খান্না ও ডিম্পল কপাড়িয়ার জীবনে। বিষয়টি নিয়ে সা/মাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এ/কটি স্ট্যাটাস দিয়েছেন লে/খিকা মিলি সুলতানা হু/বহু পাঠকদের জন্য নি/চে দেওয়া হলো।

১৬ বছরের ডিম্পল কাপাডিয়া ১৯৭৩ সালে ভারতের প্রথম সুপারস্টার রাজেশ খান্নাকে বিয়ে করার পর রিয়েলাইজ করেন, তিনি সুপার স্টারের ভালোবাসার মানুষ নন, তার ভোগের একটা মাংসপিণ্ড মাত্র। রাজকাপুর পরিচালিত “ববি” ছবির অপূর্ব দেহবল্লরীর কিশোরী অধিকারী ডিম্পলকে দেখেই তার প্রেমে পড়েন রাজেশ খান্না। সুপারস্টার হিসেবে তারও বাজার উঁচুতে ছিল। রাজেশ ডিম্পলের প্রেমের সংবাদে খুব কষ্ট পেয়েছিলেন কাপুর খান্দানের সবচেয়ে হ্যান্ডসাম ছেলে ঋষি কাপুর। ঋষি ডিম্পলের দিকে ঝুঁকে পড়ছে দেখে রাজকাপুর কঠিন ধমক দিলেন ছেলেকে। ডিম্পলকে নিয়ে স্বপ্ন দেখা ছাড়তে বাধ্য হলেন কাপুর খান্দানের মেজোছেলে। রাজেশ খান্নার সাথে বিয়ের পর দাম্পত্য জীবনের শুরুর দিকে রাজেশ ডিম্পলকে বলেছেন তিনি চাইলে চলচ্চিত্রে অভিনয় চালিয়ে যেতে পারবেন। কিন্তু ডিম্পল দেখলেন রাজেশের কথার সাথে কাজের কোনো মিল নেই। তিনি আসলে চেয়েছেন ডিম্পল তিন চারটে বাচ্চা পাড়ুক। আর ঘর সংসার করুক। ডিম্পল কিন্তু রাজেশের জন্য সেই ত্যাগও স্বীকার করেছেন। ১৯৭৪ সালে ডিম্পলের কোল জুড়ে আসে টুইঙ্কল খান্না। ছোটমেয়ে রিঙ্কি খান্নার জন্ম হয় ১৯৭৭ সালে।

রাজেশ খান্না প্লেবয় ইমেজের ছিলেন। প্রেমে পড়ে যান সে সময়ের উঠতি নায়িকা টিনা মুনিমের। টিনা এক ঝটকায় ডিম্পলের সংসারে আগুন লাগিয়ে দেন। ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির সবার চোখের সামনে দুঃসাহসিকতার সাথে লিভ টুগেদার চলতে থাকে রাজেশ-টিনার। ডিম্পলকে ডিপ্রেশনে ফেলে দেয় রাজেশ- টিনার উদ্দাম প্রেমের সম্পর্ক। ১৯৮৪ সালে দুইমেয়েকে নিয়ে রাজেশের ঘর ছাড়েন ডিম্পল। তবে তিনি রাজেশকে ডিভোর্স দেননি। রাজেশ খান্না ছিলেন রমণী মোহন পুরুষ। নারীর অভাব ছিলনা তার জীবনে। টিনা মুনিম বিয়ের জন্য রাজেশকে চাপ দিতে থাকেন। রাজেশও টিনাকে বিয়ে করার সকল মানসিক প্রস্তুতি নিয়ে ফেলেন। কিন্তু বিয়েতে বড় বাধা হয়ে দাঁড়ান ডিম্পল কাপাডিয়া। তিনি রাজেশকে ডিভোর্স না দেয়ার কারণে ভারতীয় আইন অনুসারে টিনা মুনিমকে রাজেশ বিয়ে করতে পারেননি। রাগ অভিমান নিয়ে টিনা মুনিম সরে পড়েন রাজেশের জীবন থেকে।

১৯৯১ সালে ক্যারিয়ারের চাঙ্গা সময়ে টিনা মুনিম বিয়ে করেন আম্বানি পরিবারের ছোটছেলে অনীল আম্বানিকে। ঘোড়ায় চড়ে বিয়ের মন্ডপে এসেছিলেন ভারতের ধনকুবের ভীরু ভাই আম্বানি এবং কোকিলাবেন আম্বানির ছেলে অনীল আম্বানি। টিনার শরীরে হীরা জহরত সোনার এত অংলকার পরানো হয়েছিল, যার ভার টিনার স্লিম ফিগার নিতে পারেনি। বিয়ের দিন টিনা মুনিম তার অর্ধেক অলংকারও পরেননি। অনীল- টিনার দুইছেলে, জয় আনমোল আম্বানি এবং জয় অংশুল আম্বানি। টিনার বয়স এখন ৬৬ বছর। অনীল আম্বানির সাথে প্রেমে জড়িয়ে পড়েছিলেন সুস্মিতা সেন। অনীলের সুস্মিতা আসক্তি টিনার সংসারে চরম অশান্তি শুরু করে। সুস্মিতাকে নিয়ে বিভিন্ন দেশে ঘুরতে যেতেন অনীল আম্বানি। টিনা মুষড়ে পড়েন বিষাদে। তাকে সাইকিয়াট্রিস্টের শরণাপন্ন হতে হয়েছিল। অ্যান্টি ডিপ্রেশন পিল নিতে হয়েছিল তাকে। সুস্মিতা সেনের সাথে অনীলের অ্যাগ্রেসিভ লাভ অ্যাফেয়ার দুশ্চিন্তায় ফেলে আম্বানি পরিবারকে। এরমধ্যে খবর রটে, অনীল সুস্মিতাকে বিয়ে করার পরিকল্পনা নিয়েছেন। টিনা পাগলিনীর মত ছুটে যান ভাসুর মুকেশ আম্বানি ও ভাসুর পত্নী নীতা আম্বানির কাছে। সমাধান চান তার দাম্পত্য অশান্তির। টিনার পক্ষ নেন নীতা আম্বানি। তিনি সরাসরি হস্তক্ষেপ করেন অনীল সুস্মিতার অনৈতিক সম্পর্কের উপর। দেবরকে স্পষ্ট জানিয়ে দেন সুস্মিতার সাথে সম্পর্ক থেকে সরে না এলে অনীলকে তাদের পারিবারিক ব্যবসা বাণিজ্য থেকে বের করে দেয়া হবে। অগত্যা অনীল বাধ্য হয়ে প্রেমিকা সুস্মিতাকে গুডবাই জানান।

রাজেশ খান্নার জীবনে আসেন অভিনেত্রী অঞ্জু মহেন্দ্র। সবশেষে আসেন অনিতা আদভানি। রাজেশ খান্না তার জীবনের শেষ দশ বছর অনিতা আদভানির সাথেই তার বাসভবন “আশীর্বাদে” বসবাস করেছেন। ২০১২ সালে লিভার সিরোসিসে আক্রান্ত হয়ে মারা যান সত্তরের সুপারস্টার রাজেশ খান্না। মৃত্যুর আগে রাজেশ খান্না তার হাজার কোটি টাকার বিপুল সম্পদ দুইমেয়ে টুইঙ্কল ও রিঙ্কির নামে সমানভাবে ভাগ বাটোয়ারা করে দেন। ডিম্পলকে তার সম্পদ থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন রেখেছেন রাজেশ খান্না। অবাক হয়েছিল ফিল্মি দুনিয়ার সবাই, ডিম্পল নিজেও বিব্রত হয়েছিলেন রাজেশের এমন আচরণে। কারণ ডিম্পলের সাথে রাজেশের ডিভোর্স হয়নি। সেই হিসেবে ডিম্পল কিছুটা সম্পদ পেতে পারতেন। এমন কি তার পার্টনার অনীতা আদভানিকেও নিজের সমস্ত সম্পদ থেকে বাইরে রেখেছেন এককালের সুপারস্টার।
তবে রাজেশ খান্নার কাছ থেকে সম্পদ না পেলেও ডিম্পলের দিন মন্দ কাটছেনা। দুইমেয়েই তাদের মায়ের সব রকমের দায়িত্ব নিয়েছেন। বিশেষ করে টুইঙ্কল মা’কে তার ব্যবসার প্রধান সহযোগী হিসেবে রেখেছেন। অন্যদিকে মেয়েজামাই অকশয় কুমারও শাশুড়িকে ভালোভাবে টেক কেয়ার করছেন। টুইঙ্কল অকশয় ডিম্পলের একমাত্র বোন সিম্পল কাপাডিয়ার মৃত্যুর পর (২০০৯) তার একমাত্র ছেলে করণ কাপাডিয়ার দায়িত্ব নিয়েছেন।

প্রসঙ্গত, রাজেশ খান্নাকে ভালোবেসে কড়া মাশুল দিতে হয়েছিল ডিম্পল কপাড়িয়ার মন্তব্য করেন লেখিকা মিলি সুলতানা। তিনি বলেন, মানসিকভাবে কখনো শান্তিতে থাকতে দেননি রাজেশ খান্নাকে ডিম্পল কপাড়িয়া।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *