নির্বাচনে ইভিএম নিয়ে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করলেন জিএম কাদের

ক্ষমতাসীন আওয়ামীলীগ বিনা ভোটে ক্ষমতা দখল করে দেশের ভোট ব্যবস্থা ধ্বং/স করে ফেলেছে। যার ফলে দেশের জনগণ তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারছে না। গণতন্ত্র হু/মকির মুখে পড়েছে অথচ সরকারের মন্ত্রী-্এমপিরা গণতন্ত্রের ছোবক শুনাচ্ছেন।আবারও ক্ষমতায় থাকার কৌশল হিসেবে তারা ভোটে ইভিএম ব্যবহারের পাঁয়তারা করছে। ইভিএম ভোট চু/রির মেশিন মন্তব্য করে যা বললেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জিএম কাদের।

জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান ও বিরোধী দলীয় উপনেতা জিএম কাদের বলেছেন, দেশের সাধারণ মানুষ ইভিএমে বিশ্বাস করে না। ইভিএমে ভোট দিতে চাই না। মানুষ মনে করে ইভিএম আধুনিক ভোট চুরির যন্ত্র।

আজ রোববার বিকেলে কাকরাইলে জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় কার্যালয় মিলনায়তনে জাতীয় মৎস্যজীবী পার্টির মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

জিএম কাদের বলেন, নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে সংলাপে আওয়ামী লীগ ও কয়েকটি রাজনৈতিক দল ছাড়া বাকি সবাই ইভিএমের বিরুদ্ধে মতামত দিয়েছেন। তারপরও ইভিএমে ভোট পেতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে নির্বাচন কমিশন। এমনকি অচল ও অকেজো ইভিএম চালাতেও কোটি কোটি টাকা খরচ করছে নির্বাচন কমিশন। এই উদ্যোগকে মানুষ সন্দেহের চোখে দেখছে।

ইভিএমের মাধ্যমে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয় দাবি করে তিনি বলেন, দেশের ৯০ শতাংশ মানুষের ইভিএমের ওপর আস্থা নেই।

তিনি আরও বলেন, আমরা কারচুপির নির্বাচন চাই না। আমরা কারচুপির নির্বাচনে জিততে চাই না। আমরা চাই জনগণ ভোট দিন। আমরা অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের পক্ষে।

জাপা চেয়ারম্যান বলেন, বিভিন্ন গণমাধ্যমের দেওয়া তথ্য থেকে আমরা জানতে পেরেছি, ২০১৮ সালে নির্বাচন কমিশন ৩ হাজার ৮২৫ কোটি টাকা ব্যয়ে দেড় লাখ ইভিএম কিনেছে। গত চার মাস ধরে একটানা QC-র মাধ্যমে ৪০,০০০ ইভিএমে ত্রুটি খুঁজে পেয়েছে নির্বাচন কমিশন। এক লাখ দশ হাজার ইভিএমে ভোট গ্রহণ সম্ভব।

জিএম কাদের বলেন, সক্রিয় ইভিএমে ভোট দিতে সাধারণ ভোটাররা নানা অসুবিধার সম্মুখীন হচ্ছেন। কখনো আঙুল (আঙুলের ছাপ) মেলে না, কখনো ইভিএম অকেজো হয়ে যায়। এমন বাস্তবতায় নির্বাচনের জন্য অকেজো ইভিএম তৈরি করা বোকামি। আমরা মনে করি, অকেজো ইভিএম নির্বাচন নষ্ট করবে। ইভিএম অকেজো হওয়ায়, তাই হাতে লেখা ফলাফল প্রায়শই নিজেস্ব লোকেরা ঘোষণা করে। দেশের মানুষ মনে করছে, সরকার ভোটের ফলাফল পালটে দিতেই ইভিএম-এ নির্বাচন করতে চাইছে।

মতবিনিময় সভায় আরও বক্তব্য রাখেন জাপা মহাসচিব মুজিবুল হক চুন্নু, সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক গোলাম মোহাম্মদ রাজু, জাতীয় মৎস্যজীবী পার্টির সভাপতি আজহারুল ইসলাম সরকার, সাধারণ সম্পাদক মীর সামশুল আলম লিপটন, কেন্দ্রীয় নেতা পারভেজ সাজ্জাদ চৌধুরী, আবুল কাশেম চৌধুরী, হাফিজুর রহমান চৌধুরী, আবুল কাশেম প্রমুখ। রতন সরকার। , ফারুক হোসেন, গাজী কামরুদ্দিন, মাহমুদুল হাসান উজ্জল, আনোয়ার হোসেন, আলমগীর হোসেন, আকাশ দেওয়ান প্রমুখ।

প্রসঙ্গত, ইভিএমে ভোট করে সরকার আবারও নির্বাচনে সমস্যা সৃষ্টি করতে চায় যাতে ফের ক্ষমতায় আসা যায় মন্তব্য করেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জিএম কাদের। তিনি বলেন, সরকার অবাধ ও নিরপেক্ষ ভোট দিতে চায় না যার জন্য ইভিএমে নির্বাচন করতে চায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *