যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে অনাকাঙ্খিত ঘটনা, এবার ভিন্ন ইঙ্গিত দিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী

সরকারের বিরুদ্ধে নানা ইস্যুতে আন্দোলন করছে বিএনপি। যার ধারাবাকিতায় তারা সারা দেশে সভ-সমাবেশ করছে দলটি। যদিও দীর্ঘ দিন ক্ষমতায় বাইরে থেকে সরকারের বিরুদ্ধে তারা বড় ধরনের কোনো আন্দোলন করতে পারেনি বিএনপি। কিন্তু সম্প্রতি তাদের আন্দোলন দেখে সরকার নড়েচড়ে বসে। আর বিএনপির আন্দোলন প্রতিহত করতে সরকার আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দিয়ে তাদের নেতাকর্মীদের ওপর আক্রমন চালায় যা সং/ঘাতে রুপান্তর হয়। নির্বাচন ও মানবাধিকারসহ বিভিন্ন ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্র রাষ্ট্রদূতের প্রতিক্রিয়া নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয় বাংলাদেশের পক্ষ থেকে। মার্কিন রাষ্ট্রদূতকে স্মারকলিপি দেওয়া প্রসঙ্গে মন্তব্য করে যা জানালেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন বলেছেন, রাস্তায় মার্কিন রাষ্ট্রদূতদের স্মারকলিপি দেওয়ার সংস্কৃতি বাংলাদেশে নেই। গতকাল সোমবার সন্ধ্যায় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কথা বলেন।

যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত পিটার হাস গত ১৪ ডিসেম্বর রাজধানীর শাহীনবাগে নিখোঁজ বিএনপি নেতা সাজেদুল ইসলাম সুমনের বাসায় যাওয়ার পর মায়ের কান্না সং/গঠনের উপস্থিতি প্রসঙ্গে মন্ত্রী এ কথা বলেন।

শাহীনবাগে মার্কিন রাষ্ট্রদূত পিটার হাস যে বাড়িতে গিয়েছিলেন সেই বাড়ির দরজায় মা/য়ের কান্নার লোকজনকে কে/ন যেতে দেওয়া হলো- এমন প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, তিনি সেখানে গিয়েছিলেন তা আমরা জানতাম না।

অপর এক প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, রাস্তায় মার্কিন রা/ষ্ট্রদূতকে ধরে স্মারকলিপি দে/ওয়ার সংস্কৃতি বাংলাদেশে নেই। ‘মায়ের কান্না’ নামের সংগঠনটি কেন মার্কিন দূতাবাসে যোগাযোগ করে সেখানে স্মারকলিপি দেয়নি? তাদের এটা জিজ্ঞেস করতে হবে।’

বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে পশ্চিমাদের প্রচারণা আছে কি না- এমন প্রশ্নের জবাবে আবদুল মোমেন বলেন, ‘আসলে এটা প/শ্চিমাদের মজ্জাগত। তারা যদি দেখেন কোথাও নির্বাচন হচ্ছে এবং সেই দেশটি যদি দরিদ্র বা উন্নয়নশীল দেশ হয়, তখন তারা সেখানে নানান পর্যবেক্ষণ করেন।’

শাহীনবাগের ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্কের অবনতির কোনো আশঙ্কা নেই উল্লেখ করে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এটা একটা ছোটখাটো ঘটনা, তাদের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক খুবই গভীর।

কূটনীতিকদের নিরাপত্তার বিষয়ে জানতে চাইলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ২০০৪ সালে সিলেটে ব্রিটিশ হাইকমিশনার আনোয়ার চৌধুরীর ওপর বো/মা হামলার কথা উল্লেখ করে বলেন, বিএনপি সরকার ছাড়া বাংলাদেশে কোনো রাষ্ট্রদূতের ওপর সরাসরি হা/মলার ঘটনা ঘটেনি।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, ‘অনেকেই বিশ্বাস করেন না, বাংলাদেশ এত ভালো করল কী করে? ভাল করছেন, তাই তা/দের দাবাইয়া রাখো। দাবাইয়া যদি রা/খতে চান তবে সেখানে কিছু সমস্যা তৈরি করতে হবে। অস্থিরতা সৃষ্টি ক/রতে হবে। যে দেশে অ/স্থিরতা। সেই দেশ ধ্বং/স হয়ে গেছে। আপনি লিবিয়ার দিকে তাকান। তারা খুব ভালো ছিল, তারা ঋণ নেয়নি। সব শেষ হ/য় গেছে অস্থিরতায়। তাদের অনেকেই দেখছেন বাংলাদেশ ভালো করছে। তাই তাদের থামান। এটি একটি মজ্জাগত সমস্যা। এটা নতুন নয়, ঐতিহাসিক।

বাংলাদেশের সঙ্গে কারা এমন করছে এমন প্রশ্নে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘যারা শক্তিশালী, বুদ্ধিমান দেশ তারাই করে। আর এর সঙ্গে যোগ দেয় আমাদের দেশীয় কিছু মানুষ। যোগদান করে তারা পায়ে কুড়াল মারেন। তাদের কিছু লক্ষ্য আছে। তাদের (শক্তিশালী দেশ) তাদের নিজস্ব মতাদর্শ আছে। তিনি মনে করেন অন্যান্য দেশও এটি অনুসরণ করবে। আমরা প্রায়শই জাতিসংঘে বলে থাকি, একই মডেল সর্বত্র গ্রহণযোগ্য নয়। মডেল দেশ থেকে দেশে পরিবর্তিত হয়। তারা মনে করে তাদের মডেল সঠিক। সেটাই তারা চাপিয়ে দিতে চায়।

প্রসঙ্গত, বাংলাদেশের বর্তমান অবস্থান অনেক দেশের পছুন্দ যার কারনে অস্থিরতা সৃষ্টির করার চেষ্টা করা হচ্ছে মন্তব্য করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন।
তিনি বলেন, যু্ক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বর্তমান সম্পর্ক অনেক ভালোর যার জন্য কোনো সমস্যা হওয়ার সম্ভবনা নেই।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *