রোনালদোর সঙ্গে যা হয়েছে, সেটা রাজনৈতিক নিষেধাজ্ঞার মতো : এরদোয়ান

সম্প্রতি বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্যে দিয়ে কাতার ফুটবল বিশ্বকাপ শেষ হলো। হাড্ডা-হাড্ডি লড়াইয়ের মাধ্যমে অবশেষে বিশ্বকাপ জয় করে নেয় লিওনেল মেসির দল আর্জেন্টিনা।তবে এবারের বিশ্বকাপটা বেশি একটা সুখকর হয়নি পর্তুগালের তারকা ফুটবলার ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর জন্য। তার সঙ্গে দলের কোচের আচারণ ছিলো খুব নেতিবাচক। তাকে এক প্রকার খেলার থেকে বিরত রাখার চেষ্টা করা হয়েছে। এবার ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো রাজনীর শিকার হয়েছেন মন্তব্য করে যা জানালেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান।

কাতারে ফিফা বিশ্বকাপ জিতেছে লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনা। মধ্যপ্রাচ্যের দেশটিতে বিশ্বকাপ প্রতিযোগিতা শেষ হয়েছে ১৮ ডিসেম্বর। কিন্তু এক সপ্তাহেরও বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও তার আ/মেজ রয়ে গেছে আ/লোচনার টেবিলে। এবার সেই তালিকায় উঠে এল পর্তুগালের তারকা ফুটবলার ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর নাম। এবার তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান তাকে নিয়ে বো/মা ফাটালেন। তাঁর অভিযোগ, বিশ্বকাপের নকআউট পর্বের দুই ম্যাচে পর্তুগিজ তারকাকে একাদশে না রাখার কারণ রাজনীতি!

কাতারভিত্তিক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ‘আল জাজিরা’ এক প্রতিবেদনে এ খবর প্রকাশ করেছে। ৬৮ বছর বয়সী এই রাজনৈতিক নেতাকে উদ্ধৃত করে আল জাজিরা বলেছেন, ‘রোনালদোর সঙ্গে যা হয়েছে তা রাজনৈতিক নিষেধাজ্ঞার মতো। পর্তুগাল এই তারকাকে ন/ষ্ট করে দিচ্ছে। তাকে খেলায় দে/রিতে নামানো মানে তার মতো একজন ফুটবলারকে হতাশ করা। তারা এভাবে তার সব মানসিক শক্তি কেড়ে নিতে চেয়েছিল।

২০ নভেম্বর মরুর বুকে শুরু হয় বিশ্বকাপের ২২তম আসর। বিশ্বকাপের আগে থেকেই বিতর্কে রয়েছেন ৩৭ বছর বয়সী এই তারকা। ইংল্যান্ডের এক ক্রীড়া সাংবাদিককে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে রোনালদো তার ক্লাব ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের কোচ এরিক টেন হাগকে নিয়ে বি/স্ফোরক মন্তব্য করেছেন। যার ফলশ্রুতিতে তাকে ক্লাব থেকে বাদ দেওয়া হয়। আর বিশ্বকাপের শেষ ষোলো ও কোয়ার্টার ফাইনাল ম্যাচে শুরুর একাদশে জায়গা পায়নি পাঁচবারের ব্যালন ডি’অর জয়ী এই তারকা।

পর্তুগাল কোচ ফার্নান্দো সান্তোস দক্ষিণ কোরিয়ার বিপক্ষে গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচের মাঝপথে রোনালদোকে তুলে নেন। এটা মেনে নিতে পারেননি এই তারকা। কোচের সঙ্গে দ্বন্দ্ব ছিল পর্তুগিজ অধিনায়কের। যার খেসারত ঠিকই দিতে হয়েছে বিশ্বকাপ থেকে মরক্কোর কাছে হেরে পথেই বিদায় নিতে হয়েছে।

এদিকে ফিলিস্তিন-ইসরায়েল ইস্যুতে অতীতে বহুবার ফিলিস্তিনের যু/দ্ধবিধ্বস্ত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন সময়ের অন্যতম সেরা ফরোয়ার্ড রোনালদো। যা পশ্চিমা রাজনৈতিক নেতারা ভালো চোখে দেখেননি। এখন আবার ইসরায়েলের সঙ্গে তুরস্কের কূটনৈতিক সম্পর্ক ভালো যাচ্ছে না। হয়তো তাই কঠিন সময়ে রোনালদোর পাশে দাঁড়ানোর বার্তা দিয়েছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট।

২০২২ সালে শুধু ফুটবল নয়, ব্যক্তিগত জীবনও খুব একটা সুখের ছিল না রোনালদোর জন্য। গত এপ্রিলে তার নবজাতক পুত্র পৃথিবীতে আসার পর মৃ/ত্যুর কোলে ঢলে পড়ায় তার জীবন বি/পর্যস্ত হয়ে পড়ে। এরপর থেকে তার খারাপ সময় কাটছে। তবে জানুয়ারিতে সৌদি আরবের ক্লাব আল নাসেরে যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে এই তারকার।

প্রসঙ্গত, ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর ফিলিস্তিনিদের পাশে দাঁড়ানোর বিষয়টি কাল হয়েছে মন্তব্য করেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান। তিনি বলেন, রোনালদো পশ্চিমা বিশ্বের রাজনীতির শিকার।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *